ধানের খোলপোড়া রোগ দমনে কৃষকের করণীয় খোলপোড়া আউশ এবং আমন মওসুমে ধানের অন্যতম প্রধান রোগ। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ রোগ ধানের ফলনের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। রোগের লক্ষণ প্রাথমিক অবস্থায় ধানগাছের গোড়ার দিকে পাতার খোলে পানি ভেজা দাগ পড়ে। দাগগুলো আকারে বৃদ্ধি পেয়ে একে অপরের সাথে মিশে যায়। দাগগুলোর মাঝখানে সাদা বা ছাই রঙ হয় যা বাদামি রেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। অনেকগুলো দাগ পাশাপাশি থাকলে দেখতে গোখরা সাপের চামড়ার মত দেখা যায়। রোগটি গাছের পাতাতেও একই রকম লক্ষণ সৃষ্টি করে। ভ্যাপসা আবহাওয়ায় (অধিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা) এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়। বেশি পরিমাণ ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে রোগটির তীব্রতা বাড়ে। এছাড়াও জলাবদ্ধ জমিতে খোলপোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। রোগ দমনে করণীয় সুষম সারের ব্যবহার রোগ দমনে কার্যকর। বিশেষতঃ ইউরিয়া সার সঠিক মাত্রায় কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। পটাশ সার সমান দু'কিস্তিতে ভাগ করে এক ভাগ জমি তৈরির শেষ চাষে এবং অন্য ভাগ শেষ কিস্তি ইউরিয়া সারের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে (AWD) সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। রোগ প্রবণ এলাকায় এবং রোগ সংবেদনশীল জাতে সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব বাড়িয়ে লাগাতে হবে (২৫×১৫ সে.মি বা ২০×২০ সে.মি অথবা ২৫×২০ সে.মি ইত্যাদি)। শেষ চাষের সময় জমিতে ভাসমান আবর্জনা সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। রোগের আক্রমণ গাছের উচ্চতার শতকরা ৩০ ভাগের নিচে থাকলে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। রোগ দমনে ফলিকুর (৬৬ মিলি/বিঘা), নাটিভো (৩৩ গ্রাম/বিঘা), স্কোর (৬৬ মিলি/বিঘা) ইত্যাদি ছত্রাকনাশক ৬৬ লিটার পানিতে মিশিয়ে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যোগাযোগ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বিস্তারিত তথ্যের জন্য উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সহ, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ / নিকটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস (ডিএই) / বিএডিসি অফিসে যোগাযোগ করুন। কয়েকটি জরুরি ফোন নম্বর ও ওয়েবসাইট: ০২-৪৯২৭২০০৫-১৪ এক্স. ৩৮৯ (নাগরিক তথ্য সেবা ও সহায়ক কেন্দ্র, ব্রি, গাজীপুর); ০২-৪৯২-৭২০৫৪ (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর); www.brri.gov.bd কপি সংখ্যা: ১০,০০০; ব্রি প্রকাশনা নম্বর: ৩০৫; প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২০