N পোকা পরিচিতি: জাব পোকা শীমের একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর পোকা। এই পোকা আকারে ছোট, দেহ নরম ও নাশপাতি আকৃতির এবং পা ও শুঙ্গ লম্বাকৃতির হয়। এরা কান্ড, পাতা এবং ডগা থেকে রস শোষণ করে খায়। এদের বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতা খুব দ্রুত তাই এরা গাছে আক্রমণ করলে ফলনের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। ক্ষতির লক্ষণ: জাব পোকা অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং প্রাপ্ত বয়স্ক উভয় অবস্থাতেই গাছের নতুন ডগা, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির রস চুষে খায়। এই পোকার আক্রমণের ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং গাছের কচি পাতা ও ডগার রস চুষে খাওয়ার কারণে গাছ দূর্ব©ল হয়ে যায়। আক্রমণ বেশী হলে গাছে শুটিমোল্ড ছত্রাকের উপস্থিতি ঘটে এবং গাছ মারা যায়। ছবি: জাব পোকা ও আক্রান্ত গাছ সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা: ১। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত নাইট্রেজেন সার প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে কারণ আতিরিক্ত নাইট্রেজেন সার প্রয়োগে পোকার অধিক বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। ২। হাত দ্বারা আক্রান্ত পাতা, ডগা, ফুল, ফলসহ পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। ৩। লেডি বার্ড বিটলের পূর্ণাঙ্গ ও কীড়া এবং সিরফিড ফ্লাই এর কীড়া জাব পোকা খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে দমন করে। ৪। নীম বীজের দ্রবণ ( ১ কেজি পরিমাণ অর্ধভাঙ্গা নিম বীজ ২০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে) বা সাবানগুলা পানি ( প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ চা চামচ গুঁড়া সাবান মেশাতে হবে) কেবলমাত্র আক্রমণের স্থানে স্প্রে করেও এ পোকা অনেকাংশে দমন করা যায়। ৫। জৈব বালাইনাশক যেমন- এজাডির‌্যাকটিন ( বায়োনিম প্লাস) ১ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ৬। আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে এব্যামেকটিন (১%)+এসিটামিপ্রিড (৩%) গ্রুপের বেকটিন ৪ ইসি বা রিং টোন ৪ ইসি বা এবাসিড ৪ ইসি .৫ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে অথবা এডমেয়ার.৫ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে হারে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। তথ্যসূত্র: বিএআরআই এর কীটতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালএবং বিসিপিএ কর্তৃক প্রেরিত বাংলাদেশে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত কৃষি, জৈব ও জনস্বাস্থ্যে ব্যবহায বালাইনাশকের তালিকা।