ধানের চারাপোড়া (Seedling blight) রোগ দমন ও ট্রে-তে ম্যাট টাইপ সুস্থ চারা উৎপাদন কৃষিতে আধুনিক ও লাগসই যান্ত্রিকায়ন এখন সময়ের দাবী। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ট্রেতে চারাপোড়া রোগের আক্রমণ। বোরো মওসুমে এ রোগের আক্রমণে ট্রের চারা মারা যায়। ফলে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের রোপণ ব্যহত হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের উপযোগী ম্যাট টাইপ সুস্থ চারা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তি হলো ট্রে-তে চারা উৎপাদন সংক্ষেপে 'টিএমএস' প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে সমগ্র দেশে বোরো মওসুমে ঠাণ্ডার সময় ভালো মানের রোগমুক্ত সবল চারা উৎপাদন করা যায় যা যান্ত্রিক রোপণ কাজ নির্বিঘ্ন করে। এ চারা হাতেও রোপণ করা যাবে। এ পদ্ধতি অবলম্বনে ঠাণ্ডা থেকে চারা রক্ষা করা যায় ও দ্রুত বৃদ্ধির ফলে রোপণ উপযোগী হয় বিধায় কম বয়সী চারা ব্যবহারে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। রোগ চেনার উপায় এ রোগের ফলে চারা গজানোর পর বীজতলা বা ট্রে'র বিক্ষিপ্ত জায়গায় চারা বাদামি হয়। প্রথম দিকে চারা বিবর্ণ পেঁয়াজ পাতার মতো সুচালো হয়। চারার বৃদ্ধি পর্যায়ে সবুজ এবং ফ্যাকাশে হলুদের মিশ্রণ ছোপ ছোপ আকারে বীজতলায় বা ট্রে-তে পরিলক্ষিত হয়। কখনো কখনো চারা বা মাটিতে সাদা ছত্রাক দেখা যেতে পারে। রোগটি বোরো মওসুমে যান্ত্রিক চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত ট্রে-তে এবং মাঠের বীজতলায় চারার বেশি ক্ষতি করে। রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায় ট্রে-তে রোগমুক্ত সবল চারা উৎপাদন প্রযুক্তি রোগ হওয়ার পূর্বে করণীয় (প্রতিরোধক): প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলি এজোক্সিস্ট্রোবিন, পাইরোক্লোস্ট্রোবিন অথবা এজোক্সিস্ট্রোবিন+ডাইফেকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক মিশিয়ে ১৮-২০ ঘণ্টা বীজ শোধন করতে হবে। বীজ বপনের আগে সম্ভব হলে দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটির সাথে ধানের কুঁড়া ১০-২০% হারে ট্রে/বীজতলার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ট্রেতে বীজ বপন করে মাটির পাতলা আবরণে ঢেকে ঝর্ণা সেচ দিতে হবে। পানি ঝরিয়ে গেলে ৬০-৭২ ঘণ্টা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ট্রে ঢেকে রাখতে হবে। এরপর নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চারা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। চারার বয়স ৫-৭ দিন হলে প্রতি লিটার পানিতে ১০-২০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬ গ্রাম এমওপি, ২ গ্রাম সালফার ও ২ গ্রাম দস্তা সার ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এভাবে ২৬ দিনে (৩-৪ পাতা, ১০-১২ সে.মি.) রোগমুক্ত সবল চারা পাওয়া যাবে। রোগ হওয়ার পরে করণীয় (প্রতিষেধক): বেশী শীতের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন থেকে বিরত থাকতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখলে বীজতলায় পানি ধরে রাখতে হবে। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন দিনে এবং রাতে ট্রে/বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ট্রে/বীজতলায় চারা গজানোর পর বিক্ষিপ্ত জায়গায় বাদামি হলে চারা/মাটিতে সাদা ছত্রাক হলে কিংবা প্রথম দিকে চারা বিবর্ণ পেঁয়াজ পাতার মতো সুচালো হলে অথবা চারার বৃদ্ধি পর্যায়ে সবুজ এবং ফ্যাকাশে হলুদের মিশ্রণ হলে ছত্রাকনাশক (এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি বা সেল্টিমা) ২-৩ মিলি/লিটার হারে প্রয়োগ করতে হবে। যোগাযোগ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বিস্তারিত তথ্যের জন্য উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সহ, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ / নিকটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস (ডিএই) / বিএডিসি অফিসে যোগাযোগ করুন। কয়েকটি জরুরি ফোন নম্বর ও ওয়েবসাইট: ০২-৪৯২৭২০০৫-১৪ এক্স. ৩৮৯ (নাগরিক তথ্য সেবা ও সহায়ক কেন্দ্র, ব্রি, গাজীপুর); ০২-৪৯২-৭২০৫৪ (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর); www.brri.gov.bd কপি সংখ্যা: ২০,০০০; ব্রি প্রকাশনা নম্বর: ৩২৮; প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২১