শিশিমের এ্যানথ্রাকনোজশি রোগ পরিচিতি: শীম বাংলাদেশের অন্যতম একটি শীতকালিন সবজী। শীমের বিভিন্ন রোগ এবং পোকার মধ্যে এ্যানথ্রাকনোজ অন্যতম। এটি একটি ছত্রাকজনিত ও বীজবাহিত রোগ। এ রোগের আক্রমণে গাছের ফলন ও বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগের লক্ষণ: এ রোগের সংক্রমণে পাতার নিচের পৃষ্ঠে ইটের মত লাল বা বেগুনী রং-এর শিরা দেখা যায় যা ক্রমান্বয়ে কালো রং ধারণ করে। রোগাক্রান্ত গাছের পাতা, কান্ড ও ফলে প্রথমে বাদামী রং-এর পঁচা ক্ষত দেখা যায়। পরে তা বেড়ে গিয়ে গাছ ও ফল নষ্ট করে। কাঁচা ও পাকা উভয় ফলই আক্রান্ত হয়, তবে পাকা ফলে আক্রমণ বেশী হয়। বীজ আক্রান্ত হলে নষ্ট হয়ে মরিচা রং ধারণ করে। ছবি ছবি: আক্রান্ত পাতা ও ফল সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা: ১। রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। ২। আক্রান্ত জমির বীজ ব্যবহার করা যাবে না। রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে । ৩। বীজ বপনের পূর্বে প্রোভ্যাক্স-২০০ দ্বারা ( ৩ গ্রাম/কেজি হারে) শোধন করা। ৪। বীজতলার মাটি শোধনের জন্য কাঠের গুড়া ( ৬ ইঞ্চি পুরু) বীজতলার মাটির উপর দিয়ে পোড়াতে হবে। ৫। আক্রান্ত পাতা, ফল ও ডগা অপসারণ করতে হবে। ৬। ট্রাইকোডার্মা স্পোর/পাউডার ৩ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ৪ বার বীজতলায় স্প্রে করা। ৭। ট্রাইকোডার্মা স্পোর ব্যবহারের পরেও যদি রোগ দমন না হয় তাহলে রোভরাল প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে স্প্রে করার ৭ দিন পযন্ত ফসল উত্তোলন করা যাবে না। তথ্যসূত্র: বিএআরআই এর কীটতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল।