Mশী পোকা পরিচিতি: শীমের ফল ছিদ্রকারী পোকা শীমের ব্যাপক ক্ষতি করে। এই পোকার কীড়ার মাথা গাঢ় বাদামী থেকে কালো রঙের হয়। দেহ হলদে সাদা বর্ণের। কীড়ার পিঠে লম্বালম্বি লালচে ফোটা দেখা যায়। পূর্ণাঙ্গ পোকা দেখতে কালচে ছাই রঙের এবং নীচের পাখা সাদা তুলার মত। ক্ষতির লক্ষণ: পূর্ণাঙ্গ পোকা প্রথমে পাতার নিচে বা ফুলের কুঁড়িতে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফুল ও ফলে আক্রমণ করে এবং কচি ফল ছিদ্র করে ভিতরের শাঁস খায়। আক্রান্ত ফলের বীজগুলো আংশিক অথবা সম্পূর্ণ খেয়ে ফেলে। পোকা আক্রান্ত শীমের গায়ে ছিদ্র দেখা যায় ও ছিদ্রের মুখে পোকার বিষ্ঠা ( পায়খানা ) দেখা যায়। অনেক সময় ছিদ্র মুখে কীড়ার পিছনের অংশও দেখা যায়। এই ছিদ্র মুখ দিয়ে ফলের ভিতরে পানি ঢুকে এবং ফল পচে যায়। ছবি: কীড়া ও আক্রান্ত ফল। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা: ১। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ২। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। ৩। প্রতি একদিন পরপর আক্রান্ত ফুল ও ফল সংগ্রহ করে কমপক্ষে একহাত গভীর গর্ত করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। ৪। জৈব বালাইনাশক এমএনপিভি প্রতি লিটার পানিতে ০.২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ৫। প্রতি সপ্তাহে একবার করে ডিম নষ্টকারী পরজীবী পোকা, ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ( হেক্টর প্রতি এক গ্রাম) পরজীবী পোকা আক্রান্ত ডিম ও কীড়া নষ্টকারী পরজীবী পোকা, ব্রাকন হেবিটর ( হেক্টর প্রতি এক বাংকার বা ৮০০-১২০০ টি হিসাবে) পযায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করতে হবে। ৫। একান্ত প্রয়োজনে সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কেবলমাত্র পরিমিত মাত্রায় নির্দিষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন জৈব কীটনাশক ( স্পাইনোসেড ৪৫ এসসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৪ মিলি হিসাবে) ব্যবহার করা যেতে পারে। তথ্যসূত্র: বিএআরআই এর কীটতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ।